মৌলভীবাজারে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের ওপরে উঠেছিল। পরে সংক্রমণ ৩০-৫০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর এই হার ২০–এর নিচে নেমেছে।
আজ মঙ্গলবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দৈনিক করোনার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণের হার নেমে এসেছে ১৬ শতাংশের কিছুটা ওপরে। মার্চ মাসের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণের হার ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। তা বেড়ে ৫০ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে করোনা শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৪৪ শতাংশে। এরপর থেকে আর ৪৪ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। শনাক্তের হার ধীরে ধীরে নামতে শুরু করে।
গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় মৌলভীবাজারে নতুন করে ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯৮ জনের। শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ২। মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালে নমুনা প্রদানকারীদের মধ্যে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬ জনের, জুড়ীতে ৪ জনের, শ্রীমঙ্গলে ৩ জনের, কমলগঞ্জে ৫ জনের এবং রাজনগরে ৪ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৬০ জন। এই জেলায় রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫৪৯। সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬৭৩ জন। মারা গেছেন ৭০ জন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ঢাকার ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ৭৮৭ জনের নমুনা পড়ে আছে। ৫ থেকে ৮ আগস্ট এই নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল। এই রোগীদের নমুনা দেওয়ার পর ১৪ দিন পেরিয়ে গেছে। তাঁদের কোনো লক্ষণ না থাকায় সুস্থ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অপর দিকে কয়েক দিন থেকে নমুনা সংগ্রহের পরিমাণও কিছুটা কমে এসেছে। এখন প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ ১০০ থেকে ১৫০ জনের মধ্যে ওঠানামা করছে।
সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, প্রায় পাঁচ মাস পর ২০ শতাংশের নিচে রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনার লক্ষণও কমছে। নমুনা সংগ্রহের হারও কমছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু তা–ও ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। তবে আশঙ্কামুক্ত হওয়ার মতো অবস্থা এখনো হয়নি। যেকোনো সময় পরিস্থিতি খারাপ হয়ে উঠতে পারে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।