দিন দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কেননা অনেক চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে হাসপাতালের ৮৬ জন চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

তা ছাড়া করোনা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো, অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপন, অক্সিজেন প্লান্টের ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে বর্তমানে কতজন চিকিৎসক ও নার্স আক্রান্ত তার সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রায় দিনই আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্ত চিকিৎসক ও নার্সের বেশির ভাগই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে করোনা ইউনিটে ৩০ জন ডেডিকেটেড চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে অন্য ইউনিট থেকে চিকিৎসক আনার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষ ভেবে রেখেছে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। আইসিইউতে আছে দুজন। আর দুজন কভিড পজিটিভ রোগী এরই মধ্যে মারা গেছে। এ দুজনেরই বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায়।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও মানুষের মাঝে সচেতনতার ব্যাপক ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে ভিড় আছেই। তাদের অন্তত অর্ধেক লোকের মুখে মাস্ক নেই।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ পরীক্ষায় (গত শনিবার) ২৮২ জনের মধ্যে ৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর সব মিলিয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে ৭৯১ জন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন ভবনের সাত, আট তলার পাশাপাশি এখন ছয় তলাতেও করোনা রোগী রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছয় তলাতে থাকা শিশু বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পুরনো ভবনে। এ ছাড়া হাসপাতালের প্লান্টে অক্সিজেন সংরক্ষণ ক্ষমতা ১০ হাজার লিটার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার লিটার করা হচ্ছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুধু চিকিৎসকদেরই ৮৬টি পদ শূন্য।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এমনিতে শূন্য পদ নিয়ে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু এখন অনেক চিকিৎসক হঠাৎ অসুস্থ হচ্ছেন। তাই অন্তত শূন্য পদগুলোতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘বর্তমানে ৪০০ বেডের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আর আইসিইউ আছে ২২ বেডের। এগুলোই পর্যাপ্ত কি না তা বোঝা যাবে সামনের দিনগুলোতে। ’

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী বলেন, ‘সব সময় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগও নিচ্ছি। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *