রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পানির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ডায়ালাইসিস ইউনিট। বিকল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সচল না হওয়া পর্যন্ত ইউনিটটি চালুর সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বছরখানেক ধরে রমেকের ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিনের ১১টি বিকল হয়ে পড়ে আছে। বাকি ১৪টি মেশিন দিয়ে কোনোরকমে চলছিলো কার্যক্রম। বুধবার ওয়াটার প্লান্ট বিকল হলে বন্ধ হয়ে যায় ডায়ালাইসিস ইউনিটের পুরো কার্যক্রম।

জানা গেছে, ওয়াটার প্লান্টের মূল সরবরাহ লাইনের দু’টি মেশিন নষ্ট হওয়ার কারণে বুধবার ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চরম বিপাকে পড়েন রংপুরের আট জেলার শত শত কিডনিজনিত জটিল রোগে আক্রান্তরা।
নগরীর স্টেশন এলাকা থেকে হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাতে আসা আমিনুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার তার স্ত্রীকে ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিন্তু আজ ডায়ালাইসিস করতে না পেরে তিনি হতাশ। প্রায় দিনই এই ইউনিটে এরকম সমস্যা হয় বলেও তিনি জানান।

সরেজমিনে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কথা হয়, রমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্যরাও। দরিদ্র মানুষগুলোর সামনে আর কোনো বিকল্প উপায় না থাকায় তারা চাইছেন দ্রুত চালু হোক বন্ধ থাকা ইউনিটটি।

শুধু তাই নয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন প্রতিকার না পাবার অভিযোগ হাসপাতালের স্টাফদের।

ডায়ালাইসিস ইউনিটের সিনিয়র স্টাফ নার্স আছমা বেগম বলেন, ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট থাকায় রোগীদের ডায়ালাইসিস করতে পারছি না। অনেকবার পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বন্ধ ইউনিট চালু করার বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। এখন কাজ না থাকায় তারা বেকার সময় পার করছেন বলেও জানান তিনি।

কবে নাগাদ বন্ধ ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা যাবে তাও বলতে পারছেন না হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ২৫টি ডায়ালাইসিস মেশিনের ১১টি আগে থেকেই বিকল ছিল। বাকি ১৪টি মেশিন দিয়ে কার্যক্রম চলছিলো। এখন ওয়াটার প্লান্ট বিকল হয়ে যাওয়ায় পুরো কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এসময় তিনি আরো বলেন, মেশিনের মেয়াদ আছে কিন্তু মেশিনের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানি থেকে সার্ভিসিং করে দিচ্ছে না। এ কারণে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করার বিষয়ে দিনক্ষণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *