ডা. তাসনিমা আহমেদ : শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই শিশুর ডায়াপার পরানো নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শীতের এই সময়ে ডায়াপার পরানোর আগে-পরে কিছু বিষয় আলাদাভাবে খেয়াল রাখা উচিত। সাধারণত শিশুদের প্রস্রাব-পায়খানা থেকে সুরক্ষা দিতে ডায়াপার ব্যবহার করা হয়। এ কারণে শিশুর ডায়াপার পরানোর জায়গায় লালচে চাকার মতো বা ফুসকুড়ি হয়ে ভেসে উঠতে পারে। যাকে বলা হয় ডায়াপার র্যাশ বা নিচের পোশাকজনিত ত্বকের ফুসকুড়ি। এ জন্য ডায়াপার পরানোর আগে-পরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
পাউডার নয়, পেট্রোলিয়াম জেলি
ডায়াপার পরানোর আগে শিশুর ত্বক খুব ভালোমতো পরিষ্কার করে নিন। শিশুর ত্বক কোনো অবস্থায় যেন ভেজা না থাকে। অনেকে ডায়াপার পরানোর আগে পাউডার ব্যবহার করেন। কিন্তু পাউডার ব্যবহারে শিশুর ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। পাউডারের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন পেট্রোলিয়াম জেলি। ডায়াপার পরানোর স্থানে হালকা করে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। পেট্রোলিয়াম ত্বকের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। তাই যেকোনো বয়সী শিশুর জন্যই পেট্রোলিয়াম জেলি উপযোগী।
তবে খুব বেশি পরিমাণে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করাও ঠিক নয়। এতে শিশুর গরম লাগতে পারে। পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে ডায়াপার না পরিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ডায়াপার পরান।
বাজারে শিশুদের শরীরে র্যাশ প্রতিরোধী ক্রিম পাওয়া যায়। পেট্রোলিয়াম জেলির পাশাপাশি এই ব্যবহার করতে পারলে ভালো। নইলে শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি উঠতে পারে।
সব সময় গরম কাপড় নয়
শীতে নবজাতককে সব সময় গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হয়। এ সময় শিশুরা মায়ের দুধ পান করার কারণে তাদের শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে। তাই খুব গরম কাপড় না দিয়ে হালকা সুতির কাপড় পরানোই ভালো। তা না হলে শিশুর শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে শিশুর কাপড়চোপড় যেন আবহাওয়া বা বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানানসই হয়।
রাতে ঘুমের সময়
রাতে ডায়াপার পরালে ঘুমের মধ্যে অন্তত একবার উঠে তা বদলে দিন। এ ছাড়া শীতকালে একটা ডায়াপার বেশিক্ষণ পরিয়ে রাখলে শিশুর ঠাণ্ডা লাগতে পারে। শিশুর প্রস্রাব-পায়খানা তার ত্বকের সংস্পর্শে যত কম থাকে, ততই ভালো। তাই যত দ্রুত সম্ভব ডায়াপার বদলে দিন।
সেনসিটিভ হলে
ডায়াপার ব্যবহারের কারণে কোনো কোনো শিশুর একেবারেই সমস্যা হয় না। আবার অনেকের র্যাশ ওঠে, ত্বক লালচে হয়ে যায়। সবার ত্বক এক রকম নয়। কারো ত্বক সেনসিটিভ হয়। তাই ডায়াপার পরানো হলে একটু খেয়াল রাখুন ত্বকে কোনো রকম পরিবর্তন হয়েছে কি না। ফোলা ফোলা বা দানাদার দেখা গেলে এবং সেখানে ছোঁয়া লাগলে ব্যথায় শিশু কেঁদে উঠলে বুঝতে হবে ডায়াপার র্যাশ হয়েছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়মিত শিশুর ডায়াপার পরিষ্কার করা হলে তিন-চার দিনের মধ্যেই র্যাশ দূর হয়ে যায়। তবে যদি র্যাশ স্থানে সংক্রমণ, ক্ষত, পুঁজ দেখা যায় এবং দেহে জ্বর থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ডা. তাসনিমা আহমেদ
বারডেম হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ