চীনে নতুন নিউমোনিয়া সদৃশ রহস্যময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৫০০ জন ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, চীনের এক দল বিজ্ঞানী বলেছেন, প্রাণঘাতী ভাইরাস ২০১৯এনসিওভি সম্ভাব্য উৎস হচ্ছে সাপ। জেনেটিক বা জন্ম সম্বন্ধীয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি একটি চীনা রেস্তোরাঁয় বাদুরের স্যুপের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে সন্দেহ করা হচ্ছে যে এ ভাইরাস ছড়ানোর সঙ্গে বাদুড়ে যোগসাজশ রয়েছে।

জার্নাল অব মেডিকেল ভাইরোলজিতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বাজারে কেনাকাটার সময়ে নানা বুনো প্রজাতির সংস্পর্শে এসেছেন। এসব বাজারে জীবিত হাঁস-মুরগি, সমুদ্রজাত খাদ্য বা সি ফুড, বাদুড় এবং সাপসহ অনেক কিছুই বেচাকেনা হয়।

২০১৯ এনসিওভি ভাইরাসের বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে যে নতুন প্রজাতির এটি তৈরি হয়েছে দুটো করোনাভাইরাসের সমন্বয়ে। এ দুই ভাইরাসের একটি এসেছে বাদুড় থেকে।

এছাড়া চীনা বিজ্ঞানীদের দলটি যে সব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তাতে দেখা যায় মানুষের ওপর হামলার আগে শেষ বারের মতো এ ভাইরাসের দেখা মিলেছে সাপের শরীরে। ভাইরাসের গায়ের কিছু জৈব আমিষ বা বায়োলজিক্যাল প্রোটিনের ভিত্তিতে এটি শনাক্ত করা গেছে। এসব আমিষের কারণেই ভাইরাস পোষক বা হোস্টের দেহ-কোষে হামলা চালাতে পারে। এ ভাইরাসের রূপান্তরিত রূপটিই হলো ২০১৯-এনকোভি এবং এট সহজের মানুষের দেহ-কোষে হামলার সক্ষমতা রাখে।

ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ভাইরাসে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা তেমন জটিল নয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাদুড় থেকে সাপে ছড়িয়েছে ভাইরাস। সাপের দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। সবশেষে উহান বাজারের লোকজন সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করে বা সাপ খেয়ে এই ভাইরাসের কবলে পড়েছে। তবে বাদুড় থেকে সরাসরি মানুষের দেহে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।

২০০০-এর দশকে চীনে যে সার্স ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছিল তার সঙ্গে ইউনান প্রদেশের ঘোড়ারনাল বা হর্সশু বাদুড়ের যোগসাজশ রয়েছে। এদিকে, ২০১৯-এনকোভি ভাইরাস বংশগত দিক থেকে সার্স এর খুবই নিকটাত্মীয়। বাদুড়ই এ ভাইরাসেরও বাহন হতে পারে আশংকা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *