ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার : হারসস্প্রাংস ডিজিজ হলো শিশুদের একটি জন্মগত ত্রুটি। এই রোগে শিশুর বৃহদান্ত্রের শেষ অংশে স্নায়ুকোষ থাকে না অথবা কম থাকে। ফলে আক্রান্ত অংশের কার্যকারীতা থাকে না। তাই শিশুর পায়খানা হয় না অথবা হলেও কম হয়।
রোগের লক্ষণ :
শিশু জন্মের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পায়খানা না করা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এরপর পেট ফুলতে থাকে ও বমি হতে পারে। যেসব শিশু কম আক্রান্ত তাদের কম কম পায়খানা হয় এবং ক্রমে ক্রমে পেট ফুলতে থাকে। সামান্য আক্রান্ত শিশুরা বড় হলে তাদের দীর্ঘ দিনের কোষ্ঠ কাঠিন্য থাকে, পেট ফুলা থাকে, পেটে গ্যাস জমে থাকে এবং শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে।
ছোট বেলায় আমরা গ্রামে এই রকম লক্ষণ নিয়ে শিশু জন্ম হতে দেখেছি। শিশুর দাদী -নানীরা শিশুর পায়খানার রাস্তায় পানের বোটা দিয়ে শুরশুরি দিয়ে পায়খানা করানোর চেষ্টা করতেন। স্বাভাবিক শিশু হলে পানের বোটার শুরশুরিতে পায়খানা করে দিতো। কিন্তু হারস্প্রাংস ডিজিজ হলে শুরশুরিতে কোন কাজ হতো না। পেটে পায়খানা ও গ্যাস জমে পেট ফুলে উঠতো ডিকডিক করে। জমানো পায়খানায় ইনফেকশন হয়ে বাচ্চা ছটিঘরেই (আতুরঘরেই) মারা যেতো। মায়েদের স্বাধারণ হিস্ট্রি নেয়ার সময় “আগের বাচ্চা কি হয়ে মারা গিয়েছিল” প্রশ্ন করলে বলেন “ছটি ঘরে থাকতেই পায়খানা বন্ধ হয়ে পেট ফুইলা মইরা গেছে।” আমরা সন্দেহ করি সেই বাচ্চার হারসপ্রাংস ডিজিজ হয়েছিল। সময়মত শিশুসার্জন দেখালে হয়ত শিশুটি বেচে যেতো।
রোগের কারন:
হারসপ্রাংস ডিজিজ কি কারনে হয় তা এখনো পরিস্কার নয়। তবে কেউ কেউ সন্দেহ করেন এই রোগ বংশগত বা জেনেটিক ডিজিজ। যে কারনেই হউক এই রোগীদের কোলন বা বৃহদান্ত্রের শেষের অংশে নার্ভ সেল (গ্যাংগলিয়ন) বা স্নায়ুকোষ ঠিকমতো তৈরি হয় না। কোলনের সংকোচন ও প্রসারনের জন্য পায়খানা নিচের দিকে ধাবিত হয়। গ্যাংগলিয়ন সেল না থাকলে এই সংকোচন ও প্রসারন বা পেরিস্টালসিস মুভমেন্ট হতে পারে না। ফলে পায়খানা জমে থাকে আক্রান্ত অংশের আগে। তাতে কোলন ফুলে বড় হয়ে যায়। যাকে বলা হয় মেগা কোলন।
করণীয় :
হারসপ্রাংস ডিজিজ সন্দেহ হলে শিশুকে শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে। তিনি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে অপারেশন করে আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলে উপরের ভালো অংশের সাথে নিচের ভালো অংশের জোড়া লাগিয়ে দিবেন। তাতে শিশু স্বাভাবিকভাবে পায়খানা করতে পারবে এবং মৃত্যুর হাত থেকে বেচে যাবে।
ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার
প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ
বিভাগীয় প্রধান
প্যাথলজি বিভাগ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ