ইরফাত আরা চৌধুরী : সাড়ে তিন (৩.৫) বছর ধরে ছেলেটার ঠিক এভাবেই ক্যালানোটা দেখেছি!

একদিন তো জেবা ম্যাম বলেই ফেলল ক্লাসে, “এই তুই এত হাসিস কেন বলত!” তা শুনে আবার ও ফিক করে হেসে দিল!

রাজিব স্যার যখন বলত ” নয়ন বল ”
বুলেটের মত ঠাস ঠাস করে পড়া বলত!
হিংসে করে বলতাম, ওই তুই এত পারস ক্যাম্নে বলত!
আবারো ফিক করে হেসে দিত!

ব্লকের সময় শফিক স্যারের ক্লাসে হাটুর উপর এন্সার শিট রেখে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে দেখে স্যারের প্রশ্নের সব উত্তর দিচ্ছিল, আর স্যার খুব প্রশংসা করছিল!
চোখাচোখি হওয়ার পর যখন বুঝতে পারল আমরা সবাই তার চুরি ধরে ফেলেছি! তখন লজ্জা পেয়ে আবার হেসে দিল!

এইত কয়েকদিন আগে এ্যাসেস্মেন্ট পরীক্ষা পাশাপাশি দিয়েছিলাম, কিছু না পারলে, “ওই নয়ন এটা বল!”
” ধুর এসব পড়ি নাই রে,পারি না”,বলেই হেসে দিল আবার‍!

লম্বা বলে তোকে দিয়েই গ্রুপ সেল্ফি স্টিকের কাজ করাতাম সবাই, তুইও হাসিমুখে করতি!

আচ্ছা এই হাসির পেছনে কতটা কষ্ট থাকলে একটা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে, এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে!

কোনোদিন বুঝতে পারলাম না রে, যে তোর মনে এতটা কষ্ট, বুঝতে পারলে হাসির পরই জিজ্ঞেস করতাম, কেমন আছিস? ভাল আছিস তো!

তুই মেয়েদের সাথে খুব কথা বলতি না, কিন্তু বিশ্বাস কর কোনোদিন বুঝতে পারিনি, তোর আচরণে, যে তোর কাউন্সিলিং দরকার, তুই ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার এর পেশেন্ট!

তোর বাবা মারা যায় কিছুদিন আগে, তখনো তোর নরমাল চলাফেরা আর হাসিমুখ দেখে ধরে নিয়েছিলাম, তুই ভাল আছিস।
কিন্তু তুই হয়ত ভাল ছিলি না,
ভাল না থাকাটা হয়ত সর্বোচ্চ তে চলে গিয়েছিল, যখন দেখলি আংগুলের ডিফরমিটির কারণে নিজের স্বপ্ন কখনোই পূরণ করতে পারবি না।
হয়ত ভেবেছিল, শর্ট কেসগুলো পারব না, ফেল করব!
বন্ধুরা ডাক্তার হয়ে ইনকাম করবে, আর আমি!!

সবকিছু মিলিয়ে তুই খুব ভেংগে পড়েছিলি, তাই তোর বন্ধুরা তোকে সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে নিতে চেয়েছিল!

নয়ন কি বলেছিল জানেন! ” ধুর মানুষ আমাকে পাগল ভাববে ”
ছেলেটা সমাজের কটু কথা কতটাই না ভয় পেত!

যদি বুঝতে পারত, একদিন নিজের জীবনটাই দিয়ে শান্তি পাওয়ার অবস্থা হবে, তখন বন্ধুরাই হয়ত জোর করে নিয়ে যেত! মা ভাই বোন ও বিষয়টাকে গুরুত্ব দিত!

এখনো দিচ্ছে, লাশটাকে!

তুই আরো দুইদিন নিখোঁজ থাকতি, শান্ত হয়ে ফিরে আসতি আমাদের কাছে!

জানিস, সবাই বলছিল, মনে হয় নয়নের খারাপ কিছু হইছে, কাউকে বিশ্বাস করিনি, কারণ এত বাজে জিনিস ভাবার সাহস আমার হয়নি!

ফরেন্সিকটা খুব ভাল করেই পড়েছিলি, যে নিজেই নিজের উপর এভাবেই এক্সপেরিমেন্ট করলি!
তোর বন্ধুদের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্যেই কি ক্যাম্পাস থেকে এত দূরে গিয়ে এই কাজটা করলি!
খুব বুদ্ধি তোর!

মর্গে তোকে দেখে মনে হচ্ছিল ঘুমাচ্ছিস!
দুইদিন কিছুই খাসনি,তাই না!
অনেক কষ্ট দিয়েছিস নিজেকে,
যাতে নিজের প্রতি শেষ ভালবাসা টুকুও না থাকে!

তোর মা’র কথাটা মনে করতে পারতি, কিভাবে স্বামী আর আদরের ছোট ছেলেটার মৃত্যু একসাথে মেনে নিবে?

বন্ধুদের কথাটা ভাবতি, তন্ন তন্ন করে তোকে আশা নিয়ে খুঁজেছিল!
কতগুলো ভালবাসার মানুষকে এভাবে কষ্ট দিলি!

খুব ব্যর্থরে আমরা! সময়মত তোকে বুঝতে পারলে, আজ হয়ত আমাদের মধ্যে থাকতি তুই!

Talk to ur child, student, friend before its too late!
Depression is a psychological disease, its not based on cause when patient is in a depressed circumstance!!
It can be a little cause to take away the love from life, when s/he is a patient of disorder!!

খুব কষ্টে ছিলি এপারে,
ওপারে ভাল থাকিস ভাই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *